29.1 C
Bangladesh
রবিবার, আগস্ট ৩১, ২০২৫
spot_img

রিজওয়ানা হাসানের নেতৃত্বে পরিবেশ সুরক্ষা: পানি কনভেনশনে বাংলাদেশের ভূমিকা

পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানির নিরাপত্তা—এই শব্দগুলো বর্তমানে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সম্প্রতি, জাতিসংঘ পানি কনভেনশনে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক যোগদান এই আলোচনাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এই পদক্ষেপকে বাংলাদেশের জন্য একটি যুগান্তকারী ঘটনা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। পানি কনভেনশনে বাংলাদেশের ভূমিকা

কেন এই যোগদান এত গুরুত্বপূর্ণ?

চলতি বছরের ২০ জুন বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘের ‘দি কনভেনশন অন দ্যা প্রোটেকশন অ্যান্ড ইউজ অব ট্রান্সবাউন্ডারি ওয়াটারকোর্সেস অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল লেকস’ (ইউএন ওয়াটার কনভেনশন)-এ যুক্ত হয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম এবং বিশ্বে ৫৬তম দেশ হিসেবে এই গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিতে স্বাক্ষর করল।1 কিন্তু কেন এই যোগদানকে ঐতিহাসিক বলা হচ্ছে?

পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপে যখন পানির চাহিদা বাড়ছে, তখন আন্তঃসীমান্ত সহযোগিতা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের মতে, এই কনভেনশন আমাদের অন্তর্ভুক্তিমূলক ও কার্যকর পানি নীতিমালা প্রণয়নে সহায়তা করবে।

আন্তঃসীমান্ত পানির গুরুত্ব: বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট

বাংলাদেশ একটি ডেল্টা রাষ্ট্র, যেখানে গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা (জিবিএম) নদী ব্যবস্থাসহ ৫৭টি আন্তঃসীমান্ত নদী রয়েছে। এই নদীগুলো বাংলাদেশের পানি নিরাপত্তা, পরিবেশগত স্থিতিশীলতা এবং আঞ্চলিক শান্তির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা প্রবেশ এবং প্রায় ৬ কোটি ৫০ লাখ মানুষের নিরাপদ পয়ঃনিষ্কাশনের অভাব—এই বিষয়গুলো যৌক্তিক ও টেকসই পানি শাসনের প্রয়োজনীয়তাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

জাতিসংঘ পানি কনভেনশন আন্তঃসীমান্ত ভূ-উপরিস্থ ও ভূগর্ভস্থ পানিসম্পদের ব্যবস্থাপনায় একটি বিস্তৃত আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো প্রদান করে। এই কাঠামো দেশগুলোকে একে অপরের সাথে সহযোগিতা করতে, পানির ব্যবহার নিয়ে বিরোধ কমাতে এবং দীর্ঘমেয়াদী পানি ব্যবস্থাপনার জন্য পরিকল্পনা তৈরি করতে সাহায্য করে।

আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

জাতিসংঘ ইউরোপীয় অর্থনৈতিক কমিশনের (ইউএনইসিই) নির্বাহী সচিব তাতিয়ানা মলসিয়ান বাংলাদেশের এই যোগদানের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তিনি এটিকে দক্ষিণ এশিয়ার জন্য একটি তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা ক্রমবর্ধমান জলবায়ু চাপে আন্তঃসীমান্ত পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে।

বাংলাদেশ ২০১২ সাল থেকেই এই কনভেনশনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত এবং ২০২৪ সালে স্লোভেনিয়ায় অনুষ্ঠিত এর দশম বৈঠকেও অংশগ্রহণ করেছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সকল সদস্য রাষ্ট্রকে এই কনভেনশনে যোগ দিতে ও বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন, যা এই চুক্তির বৈশ্বিক গুরুত্ব প্রমাণ করে।

জাতিসংঘ পানি কনভেনশনের সেক্রেটারি সোনিয়া কোয়েপেল বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং অন্য দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোকেও এই কনভেনশনে যোগদানের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আগামী ২০২৬ সালের ২ থেকে ৪ ডিসেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠেয় পরবর্তী জাতিসংঘ পানি কনফারেন্স এর প্রেক্ষাপটে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘের পূর্ণ সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।2

দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্ক ও সহযোগিতা

বাংলাদেশ-ভারত যৌথ নদী কমিশন এবং গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তিসহ একাধিক দ্বিপক্ষীয় চুক্তি বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের আন্তঃসীমান্ত পানি ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে। নেপাল, চীন ও ভূটানের সঙ্গেও বাংলাদেশের সহযোগিতামূলক কাঠামো বিদ্যমান। জাতিসংঘ পানি কনভেনশনে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ এই দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কগুলোকে আরও মজবুত করার এবং নতুন সহযোগিতার পথ খুলে দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।

শেষ কথা

পানি কনভেনশনে বাংলাদেশের এই যোগদান শুধুমাত্র একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং দেশের ভবিষ্যৎ পানি সুরক্ষার জন্য একটি দৃঢ় অঙ্গীকার। এটি আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনার দিকে এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে এবং আঞ্চলিক শান্তি ও সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। পানি কনভেনশনে বাংলাদেশের ভূমিকা

আপনিও যদি পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানির নিরাপত্তা নিয়ে আগ্রহী হন, তবে এই বিষয়ে আরও জানতে এবং বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপ সম্পর্কে আপনার মতামত জানাতে আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন। এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিয়ে আপনার ভাবনা কী? নিচে মন্তব্য করে জানান!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

আরও পড়ুন

Stay Connected

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
spot_img

সর্বশেষ সংবাদ