29.1 C
Bangladesh
রবিবার, আগস্ট ৩১, ২০২৫
spot_img

সিলেটের ভূ-প্রকৃতি হুমকিতে: কোয়ারি চালুর দাবিতে বিতর্কিত রাজনৈতিক ইন্ধন

সিলেটের পাথর কোয়ারিগুলো পুনরায় চালুর দাবিতে আয়োজিত একটি মানববন্ধন সম্প্রতি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। এই কর্মসূচিতে স্থানীয় কয়েকটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ সারির নেতারা একাত্মতা ঘোষণা করেছেন, যা পরিবেশবাদী মহলে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। তাদের মতে, এই ধরনের পদক্ষেপ পরিবেশজলবায়ু পরিবর্তন এর মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে একটি ভুল বার্তা দেয়। সিলেটের ভূ-প্রকৃতি হুমকিতে

পাথর কোয়ারি চালুর দাবিতে রাজনৈতিক ঐক্য

নগরীর চৌহাট্টা এলাকার সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে পাথর ব্যবসার সাথে জড়িত মালিক ও শ্রমিকদের একটি ঐক্য পরিষদ এই কর্মসূচির ডাক দেয়। কর্মসূচি শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিলও অনুষ্ঠিত হয়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই কর্মসূচিতে স্থানীয় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা অংশগ্রহণ করে পাথর কোয়ারি খুলে দেওয়ার পক্ষে তাদের সমর্থন জানান।

এই ঘটনায় পরিবেশবাদীরা বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ। তাদের ভাষ্য, বিগত সময়ে পাথর কোয়ারিগুলোতে ব্যাপক অনিয়ম ও পরিবেশ বিধ্বংসী কার্যকলাপ দেখা গেছে। প্রভাবশালী রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় পাথর লুটপাটের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের পাথর কোয়ারি খোলার দাবিতে এক মঞ্চে আসা অপ্রত্যাশিত এবং পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। সিলেটের ভূ-প্রকৃতি হুমকিতে

স্থগিতাদেশ ও পরিবেশবাদীদের উদ্বেগ

সরকার দেশের ৫১টি পাথর কোয়ারির মধ্যে ১৭টির ইজারা প্রকৃতি ও পরিবেশ সুরক্ষার স্বার্থে স্থগিত করেছে, যার অধিকাংশই সিলেট অঞ্চলে অবস্থিত। এরপর থেকেই পাথর ব্যবসায়ীরা ইজারা পুনর্বহাল করে কোয়ারিগুলো চালুর জন্য চাপ সৃষ্টি করে আসছেন। কিছুদিন আগে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপদেষ্টা এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা জাফলং পরিদর্শন করে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে সিলেটের কোনো পাথর কোয়ারি ভবিষ্যতে ইজারা দেওয়া হবে না।

কিন্তু এরপরও পাথর ব্যবসায়ীদের মানববন্ধনে রাজনৈতিক নেতাদের অংশগ্রহণ নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী এক বিএনপি নেতা বলেন, পাথর কোয়ারি বন্ধ থাকায় প্রায় ১০ লাখ মানুষের জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে। তিনি পার্শ্ববর্তী দেশের উদাহরণ টেনে বলেন, সেখানে পরিবেশ রক্ষা করেও পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। সিলেটের ভূ-প্রকৃতি হুমকিতে

অন্যদিকে, জামায়াতের এক স্থানীয় নেতা প্রশ্ন তোলেন, যারা পরিবেশের দোহাই দিয়ে পাথর উত্তোলন বন্ধ রেখেছেন, তাদের অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা দরকার।

আইনি জটিলতা ও পরিবেশের ভবিষ্যৎ

মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয় এবং বক্তারা অবিলম্বে সিলেটের স্থগিত থাকা পাথর কোয়ারিগুলো খুলে দেওয়ার দাবি জানান। পাশাপাশি, পাথর বোঝাই ট্রাকের হয়রানি বন্ধ এবং ক্রাশার মিল মালিকদের সুযোগ দেওয়ার কথাও বলেন তারা। দাবি আদায়ে আগামীতে বৃহত্তর আন্দোলনেরও হুমকি দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে কর্মবিরতি ও পরিবহন ধর্মঘট।

রাজনৈতিক নেতাদের এই কর্মসূচিতে যোগ দেওয়া প্রসঙ্গে পরিবেশ আইন নিয়ে কাজ করা একটি সংগঠনের স্থানীয় সমন্বয়ক বলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক ইস্যু নয়। অথচ রাজনৈতিক নেতারা এর সাথে যুক্ত হয়ে বিষয়টিকে রাজনৈতিক রঙ দিচ্ছেন, যা দুঃখজনক। তিনি আরও বলেন, পাথর উত্তোলন নিয়ে আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এবং রাজনীতিবিদদের কাছ থেকে পরিবেশ রক্ষায় সহযোগিতা প্রত্যাশা করা উচিত।

আপনার মতামত কী?

সিলেটের পাথর কোয়ারি চালুর দাবিতে রাজনৈতিক নেতাদের একাত্মতা কি পরিবেশের জন্য অশনি সংকেত? উন্নয়নের নামে পরিবেশ ধ্বংস করা কতটা যুক্তিসঙ্গত? আপনার মূল্যবান মতামত কমেন্ট বক্সে শেয়ার করুন। পরিবেশজলবায়ু পরিবর্তন এর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আপনার সচেতনতাই পারে একটি টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

আরও পড়ুন

Stay Connected

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
spot_img

সর্বশেষ সংবাদ